তড়িৎ শক্তির ব্যবহার।তড়িৎ শক্তি কাকে বলে।


1)পরিবেশ ও বিজ্ঞানের- ভৌত পরিবেশ: 

iv) তড়িৎ


সূচিপত্র: 

1) তড়িৎ সম্পর্কে আলোচনা

2) সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো(MCQ) প্রশ্নের মান-1

3) অতিসংক্ষিপ্ত উত্তর দাও।(SAQ)প্রশ্নের মান-1

4) সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও। প্রশ্নের মান-2

5) তিন-চারটি বাক্যে উত্তর দাও। প্রশ্নের মান-3


*তড়িৎ প্রবাহ:

তড়িৎ-এর সাহায্যে চলে এমন কয়েকটা জিনিসের নাম লেখো।


ধরি, রাত্রিবেলায় লোডশেডিং হয়েছে, অথবা অন্য কোনো কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়েছে,

এসময় বৈদ্যুতিক আলো পেতে মানুষ কী কী ব্যবহার করে?

অন্ধকারে টর্চের আলোয় আমরা পথ চলি। টর্চের ভিতরে কী থাকে তা কি কখনও দেখেছ?


ব্যাটারি নির্জল কোশ/সেল ব্যাটারি:


টর্চের ভিতর তোমরা যাকে ব্যাটারি বলে জানো তা হলো Dry cell বা নির্জন কোশ। চলতি কথায় একে শুধু, সেল (cell) ই বলে। একাধিক সেল -এর সমবায়ে তৈরি হয় ব্যাটারি।


'সেল' ছাড়া টর্চ জ্বলে না। আবার ‘সেল' যুক্ত করলেই টর্চ জ্বালালে জ্বলে। তাহলে, টর্চের বৈদ্যুতিক বালব জ্বালার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির জোগান দেয় ‘সেল’।


*জানা প্রয়োজন:

টর্চের সেল রাসায়নিক পদার্থ।এই রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে। তখন এই সেলকে বলে 'প্রাইমারি সেল' বা 'ডিসপোজেবল সেল'।

একটা সেল নাও। খুব ভালো করে সেল টাকে লক্ষ করো। এবার দেখো '+' চিহ্ন কোথায় আছে ? যে প্রান্তে '+' চিহ্ন আছে তার উলটো প্রান্তে ' -'চিহ্ন। 

দেখা গেল, একটা ‘সেলের’ দুটি প্রান্ত, ‘ধাতব টুপি' প্রান্ত বা ‘+’ চিহ্নিত প্রান্ত,‘ধাতব চাকতি’ প্রান্ত বা '-' চিহ্নিত প্ৰান্ত।


*জানা প্রয়োজন:

বাজারে আরো অনেক রকমের সেল আছে।

ইলেকট্রনিক হাতঘড়িতে যে ‘সেল’ থাকে তা দেখতে অনেকটা বোতামের মতো। একে বোতাম সেল (Button Cell) বলে।


গাড়ির শক্তিশালী ব্যাটারিতে ছ-টা বা তার বেশি সেল থাকে। এই ধরনের সেলকে ‘সেকেন্ডারি সেল'বলে।


*বাড়ির বড়োদের সাহায্যে টর্চের বালবটাকে বার করো। ভালো করে লক্ষ করো।

টর্চের সুইচ অন করলে বালবের ভিতরে যে অংশটা জ্বলে ওঠে তাকে বলে ফিলামেন্ট।

ফিলামেন্ট, দুটো মোটা ধাতব তারের মাঝে থাকে। ওই তার দুটোর একটা সেলের ধনাত্মক প্রান্তে (+চিহ্নিত প্রান্তে) এবং অপরটি সেলের ঋণাত্মক প্রান্তে(- চিহ্নিত প্রান্তে) যুক্ত থাকে।


* দুই ক্ষেত্রেই বাল্বের দুই প্রান্তের সঙ্গে ছেলের দুই প্রান্ত যুক্ত করা হয়েছে এই ব্যবস্থাকে বলা হয় সার্কিট বা বর্তনী।


*বর্তনী কোথাও ছিন্ন হয়ে গেলে তার মধ্যে দিয়ে তড়িৎ চলাচলে বাধা পড়ে বর্তনী কাজ করে না। তখন ওই বর্তনীকে মুক্ত বর্তনী বলে।


*আর যদি বর্তনী কোথাও ছিন্ন না হয় তখন সেই বর্তনীকে বদ্ধ বর্তনী বলে। 


*যে যে ক্ষেত্রে বাল্ব জ্বলছে সেই বস্তুগুলোর মধ্যে দিয়ে নিশ্চয়ই তড়িৎ প্রবাহিত হচ্ছে এই বস্তুগুলোকে বলে তড়িতের সুপরিবাহী।যেমন-লোহার পেরেক, স্টিলের চামচ, ইত্যাদি।


 আর যেসব ক্ষেত্রে বাল্ব জ্বলছে না সেই বস্তুগুলোর মধ্যে দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হতে পারে না তাই এদের তড়িতের কুপরিবাহী বা অন্তরক বলে।

যেমন-প্লাস্টিক, চিনেমাটি, কাঠ, প্রভৃতি তড়িৎ এর কুপরিবাহী।


কাঠের স্কেল, প্লাস্টিকের স্কেল, লোহার পেরেক, সুতি কাপড়, স্টিলের চামচ, চাবি, কাগজের টুকরো, চিনামাটির কাপ।


*কোন চৌম্বক পদার্থের (লোহা নিকেল কোবাল্ট ইত্যাদি) ওপর তার জড়িয়ে ওই তারের মধ্যে দিয়ে তড়িৎ পাঠালে ওই চৌম্বক পদার্থ চুম্বকে পরিণত হয় এই ধরনের চুম্বককে তড়িৎ চুম্বক বলে।

*তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ করলে তা আর চুম্বক থাকে না।


*জানা প্রয়োজন:

আজকাল তড়িৎ চুম্বকের ব্যবহার ক্রমে বেড়ে চলেছে।যেমন-


.ইলেকট্রিক কলিং বেলে তড়িৎ চুম্বকের ব্যবহার হয়।

.লাউড স্পিকার তৈরি করতে তড়িৎ চুম্বক ব্যবহৃত হয়।

.ইলেকট্রিক ক্রেনে তড়িৎ চুম্বক ব্যবহৃত হয়।

.চোখে কোনো চৌম্বক পদার্থের কণা পড়লে, তা তুলতে ব্যবহার হয় এক বিশেষ যন্ত্রের। সেই যন্ত্র তৈরিতে তড়িৎ চুম্বক ব্যবহৃত হয়।

.মোটর তৈরিতে তড়িৎ চুম্বক ব্যবহৃত হয়।

.টেলিফোনে তড়িৎ চুম্বক ব্যবহৃত হয়।


তড়িৎ প্রবাহের ফলে আলো উৎপন্ন হয়;

Light Emitting Diode-LED;

এমন এক ইলেকট্রনিক বস্তু যা সামান্য তড়িতেই আলো দেয়। এতে কোনো ফিলামেন্ট থাকে না। এর ধনাত্মক প্রান্তটা বড়ো আর ঋণাত্মক প্রান্তটা ছোটো। একটা LED কুড়ি বছরেও নষ্ট হয় না। বাজারে নানান রং-এর আলো নিঃসরণকারী LED কিনতে পাওয়া যায় ।


*LED - তে এবার আলো জ্বলল না কেন ?


* LED এর মধ্যে দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হলে, আলো জ্বলে। তড়িৎ প্রবাহ না থাকলে আলো জ্বলে না।


*তড়িৎ প্রবাহই LED -তে উৎপন্ন আলোর কারণ কী?

LED -এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ হওয়ার সময় তড়িৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে। তাই সুইচ অন করলে LED -এর মধ্যে তড়িৎ প্রবাহ ঘটার ফলে LED জ্বলে ওঠে।


*তড়িৎ প্রবাহের ফলে তাপ উৎপন্ন হয়:


*জানা প্রয়োজন:

তড়িৎ প্রবাহের তাপীয় ফলের কয়েকটা প্রয়োগ নীম্নে আলোচনা করা হলো-


1)ইলেকট্রিক ইস্ত্রি:

এতে ‘নাইক্রোম তার’ অভ্রের উপর জড়ানো থাকে। ওর মধ্যে দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হলেই নাইক্রোম তার গরম হয়ে ওঠে।


2)ইলেকট্রিক বালব:

বালবের ফিলামেন্ট তৈরি হয় টাংস্টেন ধাতু দিয়ে। ফিলামেন্টে তড়িৎ চলাচল হলেই তার মধ্যে উৎপন্ন হয় তাপ। এই তাপ শক্তি আলোক শক্তিতে বদলে গেলে উৎপন্ন হয় আলো।


3)ফিউজ তার:

যে কোনো বৈদ্যুতিক সার্কিটের নিরাপত্তার জন্য ফিউজ তার ব্যবহার হয়। এই ফিউজের মধ্যে দিয়েই তড়িৎ ওই সার্কিটে প্রবেশ করে। ফিউজ তার খুব কম উষ্ণতায় গলে যায়। ফলে কোনো কারণে খুব বেশি পরিমাণ তড়িৎ এসে পড়লে ফিউজ তার খুব উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং গলে যায়। ফলে বর্তনী ছিন্ন হয়ে তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। তাই সার্কিটের কোনো ক্ষতি হয় না। ফিউজ তার আবার পালটে দেওয়া যায়।


4) সোলার ক্যালকুলেটর:

সোলার ক্যালকুলেটার হলো এক বিশেষ ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্র।এই যন্ত্রও চলে তড়িৎ শক্তি দিয়ে। ওই তড়িৎ শক্তির উৎস কিন্তু বাজারে যে সেল বা ব্যাটারি পাওয়া যায় সেটা নয়। তাহলে ওই তড়িৎ আসে কোথা থেকে?


আসলে,সোলার ক্যালকুলেটারের তড়িৎ জোগান দেয় সোলার প্যানেল। কতগুলো সোলার সেল দিয়ে এই প্যানেল তৈরি হয়। সূর্যের আলো ওই প্যানেলের উপর পড়লে ওই আলোক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে বদলে যায়।


* সৌর শক্তিতে চলে এমন উদাহরণ হল-যেমন-

সোলার কুকার,সোলার টেবিল ফ্যান,সোলার টিউবলাইট,সোলার স্ট্রিট লাইট ইত্যাদি সবই চলে সৌর শক্তিতে।


* সোলার প্যানেলের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা খুব কম। তবুও এখনও যেসব গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছোয়নি সেখানে সৌরশক্তিচালিত যন্ত্রই একমাত্র ভরসা।


*জীবের শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়ায় তড়িৎ শক্তির প্রভাব:


তড়িৎ শক্তির ও জীবজগতের সম্পর্কও বেশ গভীর। তোমরা জানো যে ইলেকট্রিকের খোলা তারে হাত দিলে আমাদের দেহের মধ্যে দিয়ে বিদ্যুৎ চলে যায়। আমরা বলি ‘শক’ লেগেছে। সমস্ত জীবের দেহের তরলে তড়িৎযুক্ত নানান ধরনের পরমাণু আর পরমাণু জোট থাকে। এইসব তড়িৎযুক্ত কণার উপস্থিতির জন্য জীবদেহের তরল তড়িৎ পরিবাহী হয়।


*জেলিফিশ, ইলেকট্রিক ইল (eel) মাছের কথা কী তোমরা শুনেছ?

এদের দেহে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা আছে। এরা যথেষ্ট তীব্র তড়িৎ তৈরি করতে পারে। এই বিদ্যুৎ শত্রুকে হতভম্ব করে দেয় আর দূরে সরিয়ে রাখে। হৃৎপিণ্ডের পেশিতে তড়িৎ উদ্দীপনা তৈরির জন্য এক বিশেষ ধরনের উপাদান থাকে। এদের তৈরি তড়িৎ

উদ্দীপনা হৃৎস্পন্দন তৈরি করে। যা সারা দেহের বিদ্যুৎ তরঙ্গের আকারে ছড়িয়ে পড়ে।


* মস্তিষ্ক তরঙ্গও তড়িতীয়। মস্তিষ্ক অসংখ্য স্নায়ুকোশ নিয়ে গঠিত। স্নায়ুকোশের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য তড়িৎ উদ্দীপনার সাহায্যেই পরিবাহিত হয়। ফলে পেশির সংকোচন-প্রসারণ সম্ভব হয়। আমরা চলাফেরা ও নানা কাজ করতে পারি। জীবেরা উত্তেজনায় সাড়া দেয়।


*1930-এর দশকে একদল বিজ্ঞানী স্কুইড বলে একরকম অমেরুদণ্ডী প্রাণীর স্নায়ুকোশ নিয়ে গবেষণা করছিলেন।

তাঁরা বুঝলেন যে স্নায়ুকোশের ভিতরে ও বাইরে তড়িৎবাহী কণাদের সংখ্যা ও প্রকৃতিতে পার্থক্য আছে। তড়িৎবাহী কণার পরিমাণে এই পার্থক্য থাকার জন্যই স্নায়ুকোশ বিদ্যুৎ পরিবহণকরতে পারে।


2) সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো(MCQ) প্রশ্নের মান-1


1)তড়িৎ কি?

A) আধানের স্থানান্তর

B) শক্তির স্থানান্তর

C) বস্তুটির গতি

D) শীতলতা

উত্তর: A) আধানের স্থানান্তর


2)তড়িৎ বর্তনীতে কারেন্টের একক কী?

A) ভোল্ট

B) অ্যাম্পিয়ার

C) ওয়াট

D) ওহম

উত্তর: B) অ্যাম্পিয়ার


3)তড়িৎ প্রবাহের উপর একক প্রতিরোধের পরিমাণ কেমন?

A) ভোল্ট

B) অ্যাম্পিয়ার

C) ওহম

D) ওয়াট

উত্তর: C) ওহম


4)কোন তড়িৎ চুম্বকত্বের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?

A) ফারাডে

B) গুলিউম

C) কুইব

D) লরেনৎস

উত্তর: A) ফারাডে


5)তড়িৎ শক্তির সূত্র কী?

A) P = IV

B) P = I²R

C) P = V²/R

D) সবগুলো

উত্তর: D) সবগুলো


6)বিদ্যুৎ পরিবাহিতা কি?

A) বিদ্যুতের গতি

B) তড়িৎ প্রবাহের বাধা

C) তড়িৎ প্রবাহের সহায়ক

D) বিদ্যুৎ আধান

উত্তর: C) তড়িৎ প্রবাহের সহায়ক


7)ভোল্টমিটার ব্যবহৃত হয় কী পরিমাপের জন্য?

A) বিদ্যুৎ প্রবাহ

B) প্রতিরোধ

C) ভোল্টেজ

D) শক্তি

উত্তর: C) ভোল্টেজ


8)একটি বৈদ্যুতিক বর্তনীতে যদি প্রবাহের শক্তি দ্বিগুণ হয়, তবে প্রতিরোধের কত পরিবর্তন হয়?

A) দ্বিগুণ

B) অর্ধেক

C) চতুর্থাংশ

D) অপরিবর্তিত

উত্তর: D) অপরিবর্তিত


9)চুম্বকত্বের জন্য সেরা উপাদান কী?

A) তামা

B) লোহা

C) প্লাস্টিক

D) রবার

উত্তর: B) লোহা


10)তড়িৎ শক্তির একক কী?

A) জুল

B) ক্যালরি

C) ওয়াট

D) অ্যাম্পিয়ার

উত্তর: A) জুল


3) অতিসংক্ষিপ্ত উত্তর দাও।(SAQ)প্রশ্নের মান-1


1)প্রশ্ন: তড়িৎ কী?

উত্তর: তড়িৎ হলো আধানের স্থানান্তর যা একটি পরিবাহী মাধ্যমে ঘটে এবং এটি কারেন্ট হিসেবে পরিচিত।


2)প্রশ্ন: তড়িৎ কারেন্টের একক কী?

উত্তর: তড়িৎ কারেন্টের একক হলো অ্যাম্পিয়ার (A)।


3)প্রশ্ন: ওহমের আইন কী?

উত্তর: ওহমের আইন অনুসারে, একটি পরিবাহীতে প্রবাহিত কারেন্টের পরিমাণ ভোল্টেজের সঙ্গে অনুপাতিক এবং প্রতিরোধের বিপরীতানুপাতিক। 


4)প্রশ্ন: তড়িৎ শক্তির সূত্র লিখুন।

উত্তর: তড়িৎ শক্তির সূত্র হলো 𝑃=𝑉×𝐼

P=V×I, যেখানে P হলো শক্তি, V হলো ভোল্টেজ এবং I হলো কারেন্ট।


5)প্রশ্ন: বিদ্যুৎ প্রতিরোধক কী?

উত্তর: বিদ্যুৎ প্রতিরোধক হলো একটি বৈশিষ্ট্য যা একটি পরিবাহকের প্রতিরোধ করার ক্ষমতাকে চিহ্নিত করে, যা তড়িৎ প্রবাহকে বাধা দেয়। একক হলো ওহম (Ω)।


6)প্রশ্ন: ভোল্টমিটার কীভাবে কাজ করে?


উত্তর: ভোল্টমিটার একটি যন্ত্র যা বৈদ্যুতিক সার্কিটে ভোল্টেজ পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি সার্কিটে সমান্তরালে সংযুক্ত করা হয় এবং এটি ভোল্টেজের মান প্রদর্শন করে।


7)প্রশ্ন: তড়িৎ শক্তির একক কী?

উত্তর: তড়িৎ শক্তির একক হলো ওয়াট (W), যা কারেন্ট এবং ভোল্টেজের গুণফল হিসেবে নির্ধারিত হয়।


8)প্রশ্ন: তড়িৎ পরিবাহিতা কী?

উত্তর: তড়িৎ পরিবাহিতা হলো একটি পদার্থের ক্ষমতা যাতে তড়িৎ প্রবাহ সহজে চলতে পারে। এটি প্রতিরোধকের বিপরীত। একক হলো সিমেন্স (S)।


9)প্রশ্ন: সিরিজ এবং সমান্তরাল সার্কিটের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: সিরিজ সার্কিটে প্রতিটি উপাদান একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে এবং কারেন্ট একপথে প্রবাহিত হয়। সমান্তরাল সার্কিটে উপাদানগুলি বিভিন্ন শাখায় সংযুক্ত থাকে এবং প্রতিটি শাখায় আলাদা আলাদা কারেন্ট প্রবাহিত হয়।


10)প্রশ্ন: তড়িৎ শক্তি ব্যবহারের কোন উদাহরণ দিতে পারেন?

উত্তর: তড়িৎ শক্তির ব্যবহার হিসেবে বাল্ব জ্বালানো, বৈদ্যুতিক মোটর চালানো, কম্পিউটার ও টেলিভিশন চালানো ইত্যাদি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে।


4) সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও। প্রশ্নের মান-2


1)প্রশ্ন: তড়িৎ প্রবাহ কী?

উত্তর: তড়িৎ প্রবাহ হলো আধানের সঞ্চালন একটি পরিবাহী মাধ্যমে, যা সাধারণত কারেন্ট হিসেবে পরিচিত।


2)প্রশ্ন: তড়িৎ প্রবাহের একক কী?

উত্তর: তড়িৎ প্রবাহের একক হলো অ্যাম্পিয়ার (A)।


3)প্রশ্ন: তড়িৎ প্রবাহ কি শুধুমাত্র ধাতুতে ঘটে?

উত্তর: না, তড়িৎ প্রবাহ শুধুমাত্র ধাতুতে নয়, বরং বৈদ্যুতিক সার্কিটে যে কোনো পরিবাহক যেমন জল, গ্যাস, এবং আর্দ্র বস্তুর মধ্যেও হতে পারে।


4)প্রশ্ন: তড়িৎ প্রবাহের জন্য পরিবাহক হিসেবে কোন উপাদান ব্যবহার করা হয়?

উত্তর: তড়িৎ প্রবাহের জন্য তামা, অ্যালুমিনিয়াম এবং রূপা প্রধান পরিবাহক উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।


5)প্রশ্ন: কারেন্ট কীভাবে মাপা হয়?


উত্তর: কারেন্ট মাপা হয় অ্যাম্পিয়ারমিটের মাধ্যমে, যা সিরিজে সার্কিটের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়।


6)প্রশ্ন: তড়িৎ প্রবাহের দিক কীভাবে নির্ধারণ করা হয়?

উত্তর: তড়িৎ প্রবাহের দিক নির্ধারণ করা হয় চার্জের গতি দ্বারা, যেহেতু ধনাত্মক চার্জগুলি ঐ দিকের দিকে চলে, তাই কারেন্টের দিক সাধারাণত ধনাত্মক চার্জের গতি অনুযায়ী।


7প্রশ্ন: সিরিজ এবং সমান্তরাল সার্কিটে তড়িৎ প্রবাহের পার্থক্য কী?

উত্তর: সিরিজ সার্কিটে কারেন্ট একপথে প্রবাহিত হয়, কিন্তু সমান্তরাল সার্কিটে প্রতিটি শাখায় আলাদা আলাদা কারেন্ট প্রবাহিত হয়।


8)প্রশ্ন: তড়িৎ প্রবাহের শক্তি কি?

উত্তর: তড়িৎ প্রবাহের শক্তি হলো সেই শক্তি যা পরিবাহকের মধ্যে কারেন্টের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয় এবং এটি ভোল্টেজ এবং কারেন্টের গুণফল হিসেবে নির্ধারিত হয়।


9)প্রশ্ন: একটি সার্কিটে কারেন্ট বন্ধ হওয়া কেন ঘটে?

উত্তর: একটি সার্কিটে কারেন্ট বন্ধ হওয়া সাধারণত ঘটে যদি সার্কিটে কোনো আঘাত বা ত্রুটি, যেমন কোনো তারের বিচ্ছিন্নতা বা সুইচ বন্ধ হয়।


10)প্রশ্ন: তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টিতে কোন প্রধান উপাদানগুলি প্রয়োজন?

উত্তর: তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টিতে একটি উৎস (যেমন ব্যাটারি বা পাওয়ার সাপ্লাই), একটি পরিবাহী (যেমন তামার তার), এবং একটি প্রতিরোধক উপাদান (যেমন বাল্ব বা মোটর) প্রয়োজন।


5) তিন-চারটি বাক্যে উত্তর দাও। প্রশ্নের মান-3


1)প্রশ্ন: বৈদ্যুতিক বর্তনী কী?

উত্তর: বৈদ্যুতিক বর্তনী হলো একটি পথ যেখানে তড়িৎ প্রবাহিত হতে পারে। এটি সাধারণত একটি শক্তি উৎস, পরিবাহক এবং একটি লোড (যেমন বাল্ব বা মোটর) নিয়ে গঠিত। কারেন্ট প্রবাহিত হওয়ার জন্য একটি পূর্ণ বর্তনী দরকার, অর্থাৎ সার্কিটে কোনো ছেদ থাকা উচিত নয়।


2)প্রশ্ন: বর্তনীতে প্রতিরোধক কী ভূমিকা পালন করে?

উত্তর: প্রতিরোধক বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহকে সীমাবদ্ধ করে। এটি কারেন্টের প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে, যাতে সার্কিটে অতি বেশি কারেন্ট প্রবাহিত না হয় এবং উপাদানগুলোর ক্ষতি না হয়।


3)প্রশ্ন: সিরিজ এবং সমান্তরাল বর্তনীতে কী পার্থক্য?

উত্তর: সিরিজ বর্তনীতে সব উপাদান একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং কারেন্ট একপথে প্রবাহিত হয়। সমান্তরাল বর্তনীতে উপাদানগুলি একাধিক শাখায় বিভক্ত থাকে, এবং প্রতিটি শাখায় আলাদাভাবে কারেন্ট প্রবাহিত হয়, যা একে অপর থেকে স্বাধীন।


4)প্রশ্ন: একটি বর্তনীতে ভোল্টেজ কীভাবে পরিমাপ করা হয়?

উত্তর: ভোল্টেজ পরিমাপ করা হয় ভোল্টমিটার দিয়ে, যা সার্কিটে সমান্তরালে সংযুক্ত করা হয়। এটি দুটি বিন্দুর মধ্যে শক্তির পার্থক্য পরিমাপ করে, যা ভোল্টেজ হিসেবে চিহ্নিত হয়।


5)প্রশ্ন: তড়িৎ প্রবাহ কি?

উত্তর: তড়িৎ প্রবাহ হলো আধানের স্থানান্তর যা একটি পরিবাহী মাধ্যমে ঘটে। এটি কারেন্টের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয় এবং এর একক হলো অ্যাম্পিয়ার (A)। এটি মূলত স্রোতের মতো একটি গতিশীল প্রক্রিয়া।


6)প্রশ্ন: তড়িৎ প্রতিরোধক কীভাবে কাজ করে?

উত্তর: তড়িৎ প্রতিরোধক একটি উপাদান যা সার্কিটে কারেন্টের প্রবাহকে বাধা দেয়। এটি তড়িৎ প্রবাহকে সীমাবদ্ধ করে, যাতে সার্কিটে অতিরিক্ত কারেন্ট প্রবাহিত না হয় এবং ক্ষতি না হয়। এর একক হলো ওহম (Ω)।


7)প্রশ্ন: বিদ্যুৎ শক্তি কীভাবে পরিমাপ করা হয়?

উত্তর: বিদ্যুৎ শক্তি পরিমাপ করা হয় পাওয়ার (P) এবং সময় (t) দ্বারা। শক্তির একক হলো জুল (J), এবং এটি পাওয়ার সূত্র 𝑃=𝑉×𝐼

P=V×I দ্বারা নির্ধারিত হয়, যেখানে V হলো ভোল্টেজ এবং I হলো কারেন্ট।


8)প্রশ্ন: সিরিজ সার্কিটে কারেন্টের আচরণ কেমন?

উত্তর: সিরিজ সার্কিটে প্রতিটি উপাদান একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে এবং সার্কিটে কারেন্ট একই পরিমাণে প্রবাহিত হয়। তবে, প্রতিটি উপাদানের ভোল্টেজ ভিন্ন হতে পারে, এবং প্রতিরোধক বাড়ালে কারেন্ট কমে যায়।


9)মুক্ত বর্তনী ও বদ্ধ বর্তনীর মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: মুক্ত বর্তনীতে কোনো এক বা একাধিক উপাদান বিচ্ছিন্ন থাকে, যার কারণে বর্তনীটি সম্পূর্ণ হয় না, ফলে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় না। অন্যদিকে, বদ্ধ বর্তনীতে সমস্ত উপাদান সংযুক্ত থাকে, ফলে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে।



আরো পড়ুন:

ছন্দে শুধু কান রাখো কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here

পাগলা গনেশ গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here

বঙ্গভূমির প্রতি কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here

একুশের কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here

আত্মকথার প্রশ্ন উত্তর Click Here

আঁকা লেখার প্রশ্ন উত্তর Click Here 

খোকনের প্রথম ছবি প্রশ্ন উত্তর Click Here

কুতুব মিনারের কথা প্রশ্ন উত্তর Click Here


মেঘ চোর গল্পের প্রশ্ন উত্তর প্রথম Part Click Here

মেঘ চোর গল্পের প্রশ্ন উত্তর দ্বিতীয় Part Click Here

দুটি গানের জন্মকথা Click Here 

কাজী নজরুলের গান Click Here 

স্মৃতিচিহ্ন কবিতার প্রশ্ন উত্তর click Here 

নোট বই কবিতার প্রশ্ন উত্তর click Here 

চিরদিনের কবিতার প্রশ্ন উত্তর click Here 

ভানুসিংহের পত্রাবলী প্রশ্ন উত্তর click Here 

রাস্তায় ক্রিকেট খেলা প্রশ্ন উত্তর click Here 

গাধার কান গল্পের প্রশ্ন উত্তর click Here 

ভারত তীর্থ কবিতার প্রশ্ন উত্তর click Here 

স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী গল্পের প্রশ্ন উত্তর click Here 

Health benefit of butter water click Here 


চিন্তাশীল নাটকের প্রশ্ন উত্তর click here 

দেবতাত্মা হিমালয় প্রশ্ন উত্তর click here 


বাংলা ব্যাকরণ কারক ও অকারক সম্পর্ক Click here 


অস্থি বা হাড়ের কার্যাবলী Click here 

থাইরয়েড গ্রন্থির প্রশ্ন উত্তর Click here 


মশা কয় প্রকার ও কী কী Click here 

Eye বা চোখের প্রশ্ন উত্তর  Click here 


অগ্ন্যাশয় এর প্রশ্ন উত্তর Click here 

ধ্বনি ও স্বরধ্বনির প্রশ্ন উত্তর Click here 

ব্যঞ্জনধ্বনি প্রশ্ন উত্তর Click here 

ধ্বনি পরিবর্তনের প্রশ্ন উত্তর part-1 Click here 

ধ্বনি পরিবর্তনের প্রশ্ন উত্তর Part-2 Click here 

শব্দ গঠনের প্রথম পর্যায় উপসর্গ ও অনুসর্গ প্রশ্ন উত্তর Click here 

শব্দ গঠনের দ্বিতীয় পর্যায় ধাতু ও প্রত্যয় প্রশ্ন উত্তর Click here 


পদ কয় প্রকার ও কি কি Click here 
পদের দ্বিতীয় ভাগ- বিশেষণপদ Click here 


পদের চতুর্থ ভাগ অব্যয় পদ Click here 



মেলা প্রবন্ধ রচনা Click here 

সপ্তম শ্রেণীর পরিবেশ বিজ্ঞান-তাপ Click here 


 আলোর প্রশ্ন উত্তর Click here 


সপ্তম শ্রেণী পরিবেশ বিজ্ঞান-চুম্বকের প্রশ্ন উত্তর Click here 


সপ্তম শ্রেণী পরিবেশ বিজ্ঞান তড়িৎ চুম্বকের প্রশ্ন উত্তর Click Here 


সপ্তম শ্রেণীর পরিবেশ বিজ্ঞান তড়িৎ এর প্রশ্ন উত্তর Click Here 


সপ্তম শ্রেণির পরিবেশ বিজ্ঞান পরিবেশবান্ধব শক্তির প্রশ্ন উত্তর Click Here